Friday, January 22, 2021

সিলেটের প্রধান প্রাকৃতিক আকর্ষণগুলো হচ্ছে রাতারগুল, বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, জাফলং, লালাখাল। সিলেট শহর থেকে জাফলং যেতে যে রাস্তা সেই রাস্তা ধরে গেলেই প্রথমে রাতারগুলের রাস্তা পাবেন হরিপুর বাজারের আগে, হাতের বামে। তারপর পাবেন লালাখালের রাস্তা হরিপুর পার হয়ে গিয়ে হাতের ডানে।

আর বিছানাকান্দি যেতে হলে রাতারগুলের রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। রাতারগুলের ওখান থেকে আরো দেড় ঘন্টার সিএনজি পথে বিছানাকান্দি। যদিও বর্ষার সময় সরাসরি জাফলং গেলে সেখান থেকে ইঞ্জিনের নৌকায় পান্থুমাই, রাতারগুল, বিছানাকান্দি ঘুরে আসা যায়। আসলে বর্ষার সময় পুরো সিলেট এক হয়ে যায়। পানিপথে প্রায় সবযায়গাতেই যাওয়া যায়।

এবার সিলেট শহর থেকে রাতারগুল যাবার আধা ঘন্টার পথের গল্প বলি। আগেরদিন জাফলং গিয়ে একবার ধরা খেয়েছিলাম। তাই আজ রাতারগুল যাওয়ার আগে সেখানকার পরিচিত এক গাইডের সাথে যোগাযোগ করে নিলাম। আমরা মূলত ঢাকা থেকে নিজেদের গাড়িতে এসেছিলাম। উঠেছি হোটেল রোজ ভিউতে। সেক্ষেত্রে নিজেদের রাস্তা নিজেদেরকেই খুজে নিতে হচ্ছিল। গুগল ম্যাপ আর পথের লোকজনই রাস্তা চিনিয়ে দেয়ার ভরসা।

তো, জাফলং যেতে আমরা বিজিবি ক্যাম্পের দিকে না গিয়ে বল্লার ঘাটের দিকে গিয়েছিলাম। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। এত বাজে রাস্তা জীবনেও দেখিনি। যাই হোক, তাই আজকে গাইডের ডিরেকশন অনুযায়ী গিয়েছিলাম। রোজ ভিউ হোটেল থেকে প্রাইভেটে করে হরিপুর বাজারের আগে স্পীড ব্রেকার পর্যন্ত যেতে ২০-২৫ মিনিট লেগেছিল। স্পীড ব্রেকারের ঐখানে গোল্ডেন হার্ভেস্টের একটা সাইনবোর্ড আছে। ঐ রাস্তা দিয়ে ভেতরে। সম্ভবত চৌরঙ্গী রোড। ঐ রাস্তা ধরে প্রায় এক ঘন্টা চলার পর রাতারগুল পৌঁছলাম। আমরা যে ঘাটে গেছিলাম তার নামটা ভুলে গিয়েছি। ওখানে মোট ৩ টা ঘাট। তার মধ্যে একটা হচ্ছে মোটর ঘাট। বাকি দুটোর নাম মনে আসছে না। রাতারগুল নেমে নৌকা ভাড়া করলাম ৭০০ টাকায়। রাতারগুল যখন ফিরলাম তখন ১.৩০ বাজে। বিছানাকান্দি যাবার প্ল্যান করলাম। কিন্তু গাইড বলল রাস্তা খুবই খারাপ, গাড়ি না নিয়ে যাওয়াই ভালো। গাড়ি গাইডের বাসার ওখানে রেখে সিএনজি নিয়ে রউনা দিলাম বিছানাকান্দি। প্রায় ২.১৫ পর ৩.৪৫ এ বিছানাকান্দি পৌঁছলাম। ঘুরেটুরে ফেরার যাত্রা শুরু করলাম ৫.৩০ এর দিকে। আসতে আসতেই জানতে পারলাম এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে নাকি খুব দ্রুত শহরে যাওয়া যায়। আমাদেরকে বিছানাকান্দি থেকে ফিরতে আর রাতারগুল আসতে হয়নি। বিছানাকান্দি থেকে সরাসরি সিলেট শহরে চলে আসা যায়।

সড়কপথে রাতারগুল থেকে বিছানাকান্দি যেতে মূলত ধূপাগুল যেতে হয়। তারপর মেইন রোডে উঠে কিছুদূর যাওয়া যায়। এরপর আবার সালুটিকর বাজারের ওখানে গিয়ে ডানে ইউ টার্ন নিয়ে বিছানাকান্দি যেতে হয়।

কিন্তু আপনি যদি সিলেট থেকে রাতারগুল যেতে চান তাহলে শহর থেকে এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে যাত্রা করবেন। ধূপাগুল গেলে হাতের ডানে ভাই ভাই হোটেল দেখবেন। ওখানে ইউটার্ন নিয়ে ডানে রাতারগুলের রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে ১০-১৫ মিনিট গেলেই রাতারগুল পেয়ে যাবেন। এই রাস্তা দিয়ে গেলে রামনগর বাজার পরবে। বাজারটা পার হয়ে সামনে বয়রা বাজারের আগেই হাটের ডানে রাতারগুলে যাওয়ার রাস্তার সাইনবোর্ড পেয়ে যাবেন। ব্যাস রাতারগুল চলে এসছেন। শহর থেকে ধূপাগুল ২০ মিনিট, তারপর ধূপাগুল থেকে রামনগর ১০ মিনিট, শেষে রাতারগুলের ঘাটের রাস্তায় ৫-৭ মিনিট চললেই রাতারগুলের দেখা পাবেন। এভাবে এই রুটে গেলে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে সিলেট শহর থেকে রাতারগুল পৌঁছে যাওয়া যায়।

বি.দ্রঃ আমরা নিজেদের প্রাইভেট কার নিয়ে গিয়েছিলাম। সময়টা ঐ হিসেবেই দেয়া। শহরের জ্যাম, রাস্তার কন্ডিশন, ড্রাইভারের অভিজ্ঞতা আর গাড়ির স্পীডের উপর এই সময় কমবেশি হতে পারে। কিন্তু কমবেশি যাই হোক এটাই সম্ভবত আমার জানা রাতারগুল-সিলেট সবথেকে ছোট রুট এবং রাস্তার অবস্থাও ভালো।

ওহ হ্যা, রাতারগুল আর বিছানাকান্দি প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর দুটি যায়গা। দয়া করে কেউ ভুলেও ভুল করে এই যায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নষ্ট করবেন। এখানে কোনো ডাস্টবিন হয়তো পাবেন না। তাই নিজের ময়লাগুলো নিজে বহন করে নিয়ে আসবেন এবং শহরে ফিরে বা নির্দিষ্ট যায়গায় ফেলবেন।

0 Comments

Leave a Comment

আমাদের অনুসরণ করুন

GOOGLE PLUS

INSTAGRAM

LINKEDIN

YOUTUBE

বিজ্ঞাপন দিন

সাম্প্রতিকজনপ্রিয়ট্যাগ

বিজ্ঞাপন দিন

লগ ইন/সাইন আপ

Advertisement

error: Content is protected !!